কর্মপন্থা

এলজিএসপি বাস্তবায়ন পদ্ধতি ও কৌশল

ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে বিভিন্ন কমিটি কাজ করছে। এ সকল কমিটিতে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের পাশাপাশি নারী ও অনগ্রসর মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হচ্ছে। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে জনমতের প্রতিফলন থাকে।

ওয়ার্ড কমিটি (ডব্লিউসি)

স্কিম বাস্তবায়নের জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে ৭ সদস্যের একটি ওয়ার্ড কমিটি আছে। একাধিক ওয়ার্ডে বিস্তৃত স্কিমের জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডের প্রতিনিধি সমন্বয়ে এ কমিটি ৭ থেকে ৯ সদস্য বিশিষ্ট হতে পারে। ওয়ার্ড কমিটির গঠন নিম্নরূপ-

  • ওয়ার্ড পর্যায়ের প্রকাশ্য সভা অনুষ্ঠান করে ওয়ার্ড কমিটি গঠন করা হয় ।
  • সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্য বা সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্য হন কমিটির আহ্বায়ক।
  • কমিটির সদস্য সংখ্যা ৭ জন :
  • ইউপি সদস্য দুই জন।
  • স্কুল শিক্ষক একজন।
  • স্থানীয় সমাজসেবক দুই জন (একজন নারী ও একজন পুরুষ)।
  • এনজিও / সুশীল সমাজের প্রতিনিধি একজন।
  • মুক্তিযোদ্ধা/মুক্তিযোদ্ধার সন্তান (পাওয়া না গেলে একজন সাধারণ নাগরিক)।
  • ওয়ার্ড কমিটির কমপক্ষে ২ জন মহিলা সদস্য হবেন ।
  • কোনো ওয়ার্ড কমিটির সদস্য স্কিম তত্ত্বাবধান কমিটির সদস্য হতে পারবেন না।
  • সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্যগণ কমপক্ষে ৩টি ওয়ার্ড কমিটির আহ্বায়ক হবেন। একজন মহিলা সদস্য, তাঁর নির্বাচনী এলাকায়, পালাক্রমে ৩টি ওয়ার্ড কমিটির আহ্বায়ক হবেন।
  • ওয়ার্ড সদস্যবৃন্দ কর্তৃক আয়োজিত ওয়ার্ড পর্যায়ের প্রকাশ্য সভা থেকে অন্যান্য সদস্যদের এলাকার জনসাধারণ মনোনীত করবেন।
  • কোনো ব্যক্তি একই সাথে একটির বেশি ওয়ার্ড কমিটির আহ্বায়ক/সভাপতি হতে পারবেন না।
  • সদস্যদের মধ্য থেকে কমিটি কর্তৃক মনোনীত একজন সদস্য-সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।

ডব্লিউ সি’র দায়িত্ব ও কার্যাবলি

  • ওয়ার্ড সভার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ের পরিকল্পনা প্রণয়ন কার্যক্রম এবং জনঅংশগ্রহণের মাধ্যমে উক্ত পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা করা।
  • সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে থোক বরাদ্দের আওতায় ঠিকাদার কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন স্কিমগুলো নিয়মিত তত্ত্বাবধান করা।
  • শ্রমঘন কাজের ক্ষেত্রে স্থানীয় শ্রমিক নিয়োগ নিশ্চিত করা।
  • সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অথবা দরপত্রের মাধ্যমে ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণ করে মালামাল ক্রয় করা/স্কিম বাস্তবায়ন মনিটর করা।
  • স্কিমের সামাজিক ও পরিবেশগত প্রভাব যাচাইকরণ।
  • সরবরাহকারী/যোগানদাতার নিকট থেকে প্রদত্ত ক্রয় আদেশ/কার্যাদেশ অনুযায়ী দ্রব্যসামগ্রী/সেবাসমূহ বুঝে নেওয়া।
  • সকল ক্রয়ের বিল, ভাউচার, মাস্টাররোল ইত্যাদি সংরক্ষণ করা এবং ইউনিয়ন পরিষদকে অডিট এবং অন্যান্য কার্যক্রমের জন্য ঐসকল কাগজপত্র প্রদান করা।
  • এছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক প্রদত্ত অন্যান্য দায়িত্ব পালন করা।

স্কিম সুপারভিশন কমিটির (এসএসসি) গঠন ও কার্যাবলি

  • প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি স্কিম তত্ত্বাবধান কমিটি আছে।
  • ওয়ার্ডের সাধারণ জনগণের মধ্য থেকে গঠিত এ কমিটির সদস্য সংখ্যা ৭ জন।
  • ওয়ার্ড সভা মিটিং-এ জনসাধারণ এবং ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই কমিটি গঠিত হয়।
  • কমিটির সদস্যবৃন্দ নিজেদের মধ্য থেকে একজন সভাপতি ও একজন সদস্য-সচিব মনোনীত করে।
  • উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্কিম তত্ত্বাবধান কাজের জন্য একজন কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন কর্মকর্তাকে এই কমিটিতে মনোনয়ন দেন।
  • ইউনিয়ন পরিষদের কোনো প্রতিনিধি স্কিম তত্ত্বাবধান কমিটির সদস্য হতে পারেন না এমনকি ওয়ার্ড কমিটির কোনো সদস্য স্কিম সুপারভিশন কমিটির সদস্য হতে পারেন না। স্কিম তত্ত্বাবধান কমিটির কমপক্ষে দুইজন সদস্য হবেন নারী।
  • স্কিম তত্ত্বাবধান কমিটি গঠিত হবার পরে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্য এই কমিটির একটি তালিকা কোনো প্রকাশ্য স্থানে টানিয়ে দেনে এবং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদের নোটিশ বোর্ডে এই তালিকাটি টানানোর ব্যবস্থা করেন।
  • মৌলিক থোক বরাদ্দ এবং দক্ষতা ভিত্তিক বরাদ্দ হতে অর্থায়নকৃত ইউনিয়ন পরিষদের সকল স্কিম বাস্তবায়নকালে স্কিম সুপারভিশন কমিটি এগুলোর বাস্তবায়ন কার্যক্রম তত্ত্বাবধান, পর্যালোচনা এবং মনিটরিং করে।

স্কিম সুপারভিশন কমিটি নিম্নলিখিত দায়িত্বসমূহ পালন করে

  • অনুমোদিত স্কিম শর্তাবলি অনুযায়ী বাস্তবায়নকালে কাজের মান, পরিমাণ ও সময়সীমা ঠিক আছে কি না তার নিয়মিত মনিটরিং করা।
  • ঠিকাদারের নিয়মিত কাজকর্মে সজাগ দৃষ্টি রাখা (কাজের মান, কাজ সময়মত হচ্ছে কি না, ইত্যাদি)।
  • পরিবীক্ষণকালে কোনো ত্র“টি পাওয়া গেলে সংশোধনের জন্য ওয়ার্ড কমিটিকে পরামর্শ দেওয়া। তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে লিখিতভাবে ইউনিয়ন পরিষদকে জানানো এবং ইউনিয়ন পরিষদও যদি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তাহলে লিখিতভাবে বিজিসিসি-কে জানানো।
  • ওয়ার্ড কমিটি স্কিম ডিজাইন/নকশা ও প্রাক্কলিত ব্যয়সীমার মধ্যে যথাযথ মান বজায় রেখে বাস্তবায়ন করেছে কি না, স্কিম তত্ত্বাবধান কমিটি হতে এমর্মে ছাড়পত্র দেওয়া। এ ছাড়পত্র পাবার পর ইউনিয়ন পরিষদ ক্রস চেকের মাধ্যমে সমাপ্ত কাজটির বিল পরিশোধ করবে।
  • কার্যাদেশ/ক্রয় আদেশ পর্যালোচনা করা।
  • স্থানীয় অনুদান সংগ্রহ।
  • সামাজিক ও পরিবেশগত অবস্থা পর্যালোচনা করা।
  • বাস্তবায়ন কাজের মান ও এর প্রভাব সম্পর্কে সভার মাধ্যমে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে অবহিত করা।
  • এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক প্রদত্ত অন্যান্য দায়িত্ব পালন করা।
  • সর্বোপরি বেসরবকারি ঠিকাদার কর্তৃক স্কিম বাস্তবায়নকালে স্কিম সুপারভিশন কমিটি সজাগ দৃষ্টি রাখবে। যে সকল স্কিম, স্কিম সুপারভিশন কমিটি তত্ত্বাবধান করছে সেগুলির চুক্তি, চূড়ান্ত ডিজাইন/নকশা এবং প্রাক্কলিত ব্যয়ের কপিসহ কার্যাদেশের কপি ইউনিয়ন পরিষদ স্কিম সুপারভিশন কমিটিকে সরবরাহ করবে।

দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি

টেন্ডরের মাধ্যমে বাস্তবায়নযোগ্য স্কিমসমূহের দরপত্র মূল্যায়নের জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে ৫ (পাঁচ) সদস্য বিশিষ্ট দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি রয়েছে।

কমিটির গঠন নিম্নরূপ

আহবায়কঃ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি/কলেজের শিক্ষক (উপযুক্ত ব্যক্তি পাওয়া না গেলে ইউএনও কর্তৃক মনোনীত সরকারি কর্মকর্তা) ; সদস্যঃ উপজেলা নির্বাহী অফিসার কর্তৃক মনোনীত উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা; সদস্যঃ ইউপি কর্তৃক মনোনীত ইউপি পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা/কর্মচারী; সদস্যঃ ইউপি হিসাব সহকারী (যদি থাকে); সদস্য সচিবঃ ইউপি সচিব।

দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি’র দায়িত্ব

  • প্রাপ্ত দরপত্র উন্মুক্তকরণ;
  • উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে গৃহীত দরপত্রের মূল্যায়ন করা;
  • নির্ধারিত ছক অনুযায়ী দরপত্র মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রণয়ন করা;
  • কার্যাদেশ প্রদানের সুপারিশসহ দরপত্র মূল্যায়ন প্রতিবেদন ইউপি’র নিকট দাখিল করা।

উপজেলা রিসোর্স টিম এর গঠন ও কার্যাবলি

এলজিএসপি-৩ প্রকল্পের আওতায় ইউনিয়ন পরিষদকে শক্তিশালীকরণের উদ্দেশ্যে চেয়ারম্যান, সদস্য এবং সচিবদের প্রশিক্ষণ প্রদানের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ প্রদানকল্পে দেশের প্রতিটি উপজেলায় নিম্নরূপ উপজেলা রিসোর্স টিম গঠন করা হয়েছে ঃ (ক) উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইএনও) আহ্বায়ক (খ) উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত ৪ জন সরকারি কর্মকর্তা সদস্য (গ) উপজেলা নির্বাহী অফিসার কর্তৃক মনোনীত ৫ জন বিশিষ্ট নাগরিক সদস্য [অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক, এনজিও কর্মী, প্রক্তন ইউপি চেয়ারম্যান/সচিব ইত্যাদি] উপজেলা রিসোর্স টিম (টঢ়ধুরষধ জবংড়ঁৎপব ঞবধস) একটি কর্মমুখী ইউনিট হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। যখন, যেখানে এবং যে জন্য প্রয়োজন হবে এ টিমের আহবায়ক ইউনিয়নগুলোকে সেরূপ সহায়তা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট সদস্যকে অনুরোধ জানাবেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউআরটি এর একজন সদস্যকে সদস্য সচিব হিসাবে মনোয়ন প্রদান করবেন।

কমিটির কার্যপরিধি (Terms and Reference)

(ক) উপজেলা রিসোর্স টিম (URT) -এর সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এলজিএসপি-৩ কর্তৃক আয়োজিত কোন প্রশিক্ষণ বা অন্য কোন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা; (খ) সংশ্লিষ্ট উপজেলার আওতাভুক্ত ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান; (গ) সংশ্লিষ্ট উপজেলায় এলজিএসপি-৩ এর আওতায় গৃহীত কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করা; (ঘ) ব্লক গ্রান্ট কো-অর্ডিনেশন কমিটির সভায় অংশগ্রহণ করা।

ব্লক গ্রান্ট কো-অর্ডিনেশন কমিটি (বিজিসিসি)

মাঠ পর্যায়ে দেশের সকল ইউনিয়ন পরিষদে সফলভাবে প্রকল্পোর বাস্তবায়ন এবং যথাযথভাবে তা মনিটরিং-এর জন্য প্রতিটি উপজেলায় নিম্নরূপভাবে ব্লক গ্রান্ট কো-অর্ডিনেশন কমিটি (বিজিসিসি) গঠন করা হয়েছে : সিভিল সোসাইটি/ব্যক্তিখাতের (প্রাইভেট সেক্টর) সদস্যসহ উপজেলা রিসোর্স টিমের (ইউআরটি) সদস্যগণ

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)সভাপতি
উপজেলার অধীনস্থ সকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসদস্য
ইউনিয়ন পরিষদ থোক বরাদ্দের ব্যাংক এ্যাকাউন্ট পরিচালনাকারী মহিলা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যসদস্য
সদস্য
উপজেলা প্রকৌশলী/সহকারী প্রকৌশলী, এলজিইডিসদস্য-সচিব

* উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপপরিচালক স্থানীয় সরকার বিশেষভাবে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বিজিসিসি সভায় উপস্থিত থাকবেন।

বিজিসিসি নিম্নবর্ণিত বিষয়গুলোতে ইউনিয়ন পরিষদসমূহকে পরামর্শ ও সহায়তা দিবে

ক) ৫ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন; খ) স্কিমের কারিগরি ও আর্থিক সম্ভাব্যতা মূল্যায়ন; গ) বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় ও তাদের সহায়তা নিশ্চিতকরণ; ঘ) ইউনিয়ন পরিষদসমূহের মধ্যে এবং উপজেলার সঙ্গে তথ্য বিনিময় নিশ্চিতকরণ; ঙ) উপজেলা পরিষদ বা অন্যান্য সংস্থার মাধ্যমে পরিকল্পিত বা বাস্তবায়িত স্কিমের ক্ষেত্রে দ্বৈততা না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিতকরণ; চ) সামাজিক ও পরিবেশগত দিক থেকে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন এবং সামাজিক ও পরিবেশগত সুরক্ষার প্রতিপালন নিশ্চিতকরণ; ছ) এডিপি ও বাজেট বাস্তবায়নে স্থিরকৃত লক্ষ্য অর্জনের জন্য সার্বিক অগ্রগতি মূল্যায়ন; জ) উপজেলা পর্যায়ে সমন্বয় ও/অথবা হস্তক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে এমন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া; ঝ) ইউপি ও উপজেলার সক্ষমতা বৃদ্ধি ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডের সমন্বয় সাধন ও ত্বরান্বিত করা এবং; দক্ষতা মূল্যায়ন চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতার মান উন্নয়ন। বিজিসিসি প্রতি তিন মাসে অন্তত একবার সভায় বসবে। বিজিসিসি এর বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সমন্বয় সভায় রিসোর্স পার্সন হিসেবে অংশগ্রহণ করার জন্য উপজেলায় বিদ্যমান বিভিন্ন সংস্থাকে (যেমন: শিক্ষা, স্বাস্থ্য ইত্যাদি) আমন্ত্রণ জানাতে পারবে। প্রয়োজনে, বিজিসিসি এর সভাপতি অতিরিক্ত বিজিসিসি সভা আহ্বান করতে পারবেন।

এলজিএসপি-৩ এর অর্থ যেসব কাজে ব্যয় করা যাবে না

  • ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, সদস্য কিংবা কর্মীদের বেতন, মজুরি কিংবা অন্য কোনো সুবিধা দেওয়া।
  • ক্ষুদ্র অর্থায়নসহ কোনো অর্থনৈতিক সেবা যেখানে ক্ষুদ্র ব্যবসার উদ্যোগে ঋণ সরবরাহ করা হয়।
  • এমন কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা যাবে না, যার নেতিবাচক পরিবেশগত/সামাজিক প্রভাব আছে।
  • ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সাথে সংযুক্ত কোনো প্রকল্পে বিবিজি/পিবিজি তহবিল থেকে অর্থায়ন করা যাবে না।
  • ইউনিয়ন পরিষদের অবকাঠামো, দেওয়াল নির্মাণ, আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতি সংক্রান্ত কোনো প্রকল্পে বিবিজি/পিবিজি তহবিল থেকে অর্থায়ন করা যাবে না।

জেলা সমন্বয় কমিটি (ডিসিসি)

মাঠ পর্যায়ে দেশের সকল ইউনিয়ন পরিষদকে সফলভাবে এলজিএসপি’র আওতায় উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন, মনিটরিং এবং প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদানের জন্য দেশের সকল জেলায় জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে নিম্নরূপভাবে জেলা সমন্বয় কমিটি (ডিসিসি) গঠন করা হয়েছে ।

ডিসিসি’র কার্যাবলি

  • উপ-পরিচালক, স্থানীয় সরকার কর্তৃক প্রদত্ত স্কিমের অগ্রগতি প্রতিবেদন পর্যালোচনা এবং এলজিএসপি-৩- বাস্তবায়নের অগ্রগতি পরিবীক্ষণ;
  • মৌলিক থোক বরাদ্দ এবং দক্ষতা ভিত্তিক বরাদ্দের আওতায় স্কিম/সেবা প্রদানের নীতি প্রণয়ন/চিহ্নিতকরণ ও বাস্তবায়নে প্রয়োজন অনুযায়ী উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদসমূহকে দিকনিদের্শনা ও পরামর্শ প্রদান;
  • জেলা পর্যায়ে প্রকল্প সংক্রান্ত আপত্তি/অভিযোগ নিষ্পত্তিকরণ কার্যক্রম তদারকি এবং প্রকল্পের অর্থ ব্যবহার/বিজিসিসি এর সিদ্ধান্ত/ইউনিয়ন পরিষদের প্রকল্প/স্কিম ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বিভিন্ন গ্র“পের দায়ের করা অভিযোগ/আপত্তি নিয়ে আলোচনা করা ও নিষ্পত্তিতে দিকনির্দেশনা প্রদান করা;
  • উপ-পরিচালক, স্থানীয় সরকার কর্তৃক প্রদত্ত প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পর্যালোচনা এবং ইউপি অপারেশনাল ম্যানুয়েল ও স্থানীয় সরকার (ইউপি) আইন ২০০৯ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ;
  • ইউনিয়ন পরিষদসমূহকে সময় মতো সহায়তা প্রদানের জন্য উপজেলা পর্যায়ের দপ্তরসমূহকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান;
  • ইউনিয়ন পরিষদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিরীক্ষা কার্যক্রমসহ এলজিএসপি-৩ সংশ্লি¬ষ্ট অন্যান্য কর্মকাণ্ডের সমন্বয় সাধন।

জেলা সমন্বয় কমিটি প্রতি ৬ মাসে অন্তত একবার সভা করবে; তবে, সভাপতি জরুরি প্রয়োজনে একাধিক সভা আহ্বান করতে পারবেন। জেলা সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠানের জন্য সদস্য-সচিব সকল সদস্যকে অন্তত এক সপ্তাহ আগে লিখিত নোটিশ প্রদান করবেন। সকল জেলা সদরে অথবা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোনো একটি উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সভার কার্যবিবরণী সংশ্লিষ্ট সকলকে এবং স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রেরণ করতে হবে।

আশার কথা

আশা করা যায়, স্থানীয় পর্যায়ে জনঅংশগ্রহণ নিশ্চিত করে বিভিন্ন অবকাঠামো যেমন- যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্টানসমূহের অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন সহ ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে পল্লী অঞ্চলে দারিদ্র দূরীকরণে অবদান রাখবে। এছাড়াও ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদকে শক্তিশালীকরণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে এলজিএসপি-৩ কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

Footer Separator